এদেশে অনেকেই ঘুষ খাওয়া, সুদ খাওয়া হারাম মানলেও, শশুর বাড়ি থেকে জুলুম করে আনা বিভিন্ন উপকরণ- উপঢৌকনকে হারাম মনে করে না!
বিয়ের দিন ১০০-৩০০ মানুষ খাওয়ার পর একগাদা তোষক থেকে বদনা (লোটা) পর্যন্ত সব দিতে হয়। তারপর আসে হিরানি নামক আরেক জুলুম। খাবে তো খাবে আবার পোশাক-আশাক ও দিতে হয়। ছেলের মোটামুটি চৌদ্দগুষ্টিকে খুশি করতে হয়।
এরপর তো একের পর এক পর্ব চলতেই থাকে। ওমুক দুলাভাই প্রবাস থেকে আসছে, ওমুক আন্টি-চাচী শহর থেকে আসছে তাদের ধাপে ধাপে দাওয়াত খাওয়ানো। এটা চলমান প্রক্রিয়া।
সিজনাল ব্যবসাও মন্দ যায় না। শীতের পিঠা, গরমের ফল, রমাদানের সেমাই চিনি আর কুরবানীতে গরু কিংবা ছাগল।
এখানেই কি শেষ। নাতি-নাতনী হলে মিষ্টি পাঠানো, দাঁত উঠলে দাঁতের পিঠা, মুসলমানিতে (খৎনা) চেইন কিংবা আংটি! আর কত বলব?
অবাক করা বিষয়টি কি জানেন?
এসব যারা নেয়, তারা ভাবে, মেয়ের বাবারা দিতেই হয়, দিতেই পারে! খুশি হয়ে নাকি দেয়!
এই জালিমগুলো ভাবে না, এই দেয়া-নেয়ার রীতির কারণে মানুষ কন্যা সন্তান পৃথিবীতে আসলে ভয় পায়। আদরের কন্যাকে ১৬ থেকে ১৮ বছর পরম যত্নে মানুষ করার পর নিদ্রাহীন রাত কাটায় একটা ভালো সম্বন্ধের আশায়।
ধিক্কার ও অভিশাপ এমন হেদায়েত বঞ্চিত জালিমদের ওপর। যারা মেয়ের পরিবারের প্রতি দিনের পর দিন জুলুম করতেই থাকে।
বি:দ্র: মোট নির্যাতনের শিকার নারীর ৮৩ শতাংশ যৌতুকের কারণে। (দৈনিক ইত্তেফাক)
🖋️জাহিদ হাসান